ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ , ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুর ইউনিয়নে ভূমিহীন কৃষকের সরকারি বন্দোবস্ত জমি দখল, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা॥

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১০ ১৮:৫৪:৫৬
হরিরামপুর ইউনিয়নে ভূমিহীন কৃষকের সরকারি বন্দোবস্ত জমি দখল, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা॥ হরিরামপুর ইউনিয়নে ভূমিহীন কৃষকের সরকারি বন্দোবস্ত জমি দখল, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা॥
দিনাজপুর প্রতিনিধি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ভূমিহীন কৃষকের এককালীন সরকারি বন্দোবস্ত খাস জমি,ভূমিদস্যুদের নিজেদের দাবি করে দখল,বিচার চেয়ে ভূমিহীন আলী আকবর গংয়ের আদালতে মামলা। ভুক্তভোগী আলী আকবর গং জানান পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার তাফসিল বর্ণিত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি হইতেছে,আমার পিতা আলী আকবর একজন ভূমিহীন গরীব কৃষক হওয়াই বাংলাদেশ সরকারের নিকট ১নং খতিয়ানভুক্ত ৫০৩ দাগের সম্পত্তি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আবেদন করলে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় দিনাজপুর হতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পায়,যাহার কেস নং ঢষষষ.২০৯/৮৬-৮৭এবং ৩১/০২/৮৬ মূলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নং-বার-২০৯/৮৬-৮৭,মূলে একর প্রতি ৫ শত টাকা হারে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের শর্তে গত ৩১/০১/৮৭,সালে ৩০১/০১(৩)আর এম স্মারকে আমার পিতা আলী আকবরকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা আরও জানান সরকার বাহাদুর হতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে গত ১৯৮৭ সাল থেকে আমার পিতা আলী আকবর চাষাবাদ করে ভোগদখল করে আসছিলেন,তিনি ভোগদখল থাকাকালীন দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার ৫০৩ নং দাগের নালিশি সম্পত্তি আবেদন করলে নিজ নামে খারিজ হয়। যাহার খারিজ খতিয়ান নং ১৩৫৬ ডি সি আর প্রাপ্ত হয়ে বাংলা ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আমার পিতার পক্ষে নালিশি সম্পত্তি আমি এবং আমরা ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সাহাদাৎ হোসেন শাদো ও তৌফিকুল ইসলাম তপুগং উপজেলার দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার আলী আকবর এর সরকার বাহাদুর হতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়া ১নং খতিয়ানভুক্ত ৫০৩ দাগের ২২.১৫ একর সম্পত্তির মধ্যে ১.২১ একর সম্পত্তি তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে জবরদখল করার চেষ্টা করে আসছে। এমতাবস্থায় উপজেলার দক্ষিণ হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর মৌজার ১নং খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি ৫০৩ দাগের সরকারি খাসজমি জবরদখল প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক দিনাজপুরকে জবরদখল প্রসঙ্গে অবগত করা হলে,পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পার্বতীপুর এর স্মারক নং ২৯(৩) ১০/১/২০১২ইং তারিখে দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার নালিশী ৫০৩ দাগের সরকারি খাসজমি জবরদখল সংক্রান্ত পত্র পাওয়া যায় মর্মে নালিশী জমির বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও ডেপুটি কালেক্টরকে ৫০৩ দাগের পরিসীমা চিহ্নিত করা,ব্যক্তি খতিয়ানের ৪.৪৬ একর জমি চিহ্নিত করা, খাস খতিয়ানের ১৭.৬৯ একর জমি চিহ্নিত করা, খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি যাচাই করে চিহ্নিত করা এবং অবশিষ্ট খাস সম্পত্তি চিহ্নিত করে অবৈধদখলকার উচ্ছেদের কার্যক্রম গ্রহণ এবং চলমান জরিপে সরকারের নামে রেকর্ডকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিম্নোক্তভাবে নির্দেশ দেন। নির্দেশক্রমে তদন্ত ও পরিমাপের পরবরর্তীতে গত ১৮/০২/২০১৩ইং এসএ/বন্দোবস্ত চার-৫৬/১৩/৮৭(২) নং স্মারকে সরকারি খাসজমি জবর দখল বিষয়ে নির্দেশনা ও বাস্তবায়নপুর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়,তাঁতে উল্লেখ করা হয় উপযুক্ত বিষয় ও সুত্রের প্রেক্ষিতে জানানো হয় মোঃ শাহাদাৎ হোসেন শাদো ও মোঃ তৌফিকুল ইসলাম তপুগং উপজেলার দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার ৫০৩ দাগে ২২.১৫ একর সম্পত্তির মধ্যে ১.২১ একর সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করে জৈনেক আলী আকবরগংকে উচ্ছেদ করে জবরদখল করার চেষ্টা করেন ফলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়,উক্ত নালিশি সম্পত্তি জৈনেক আলী আকবরগং তাঁদের বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি হিসেবে দাবি করেন,সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনা মোতাবেক দক্ষিণ হরিরামপুর মৌজার ৫০৩ দাগে ২২.১৫ একর সম্পত্তি সরজমিন তদন্ত ও উক্ত দাগের ভোগদখলকারীগণের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়, তাঁতে দেখা যায় ৫০৩ নং দাগে ২২.১৫ একর সম্পত্তির মধ্যে ১৭.৬৯ একর সম্পত্তি ১নং খতিয়ানভুক্ত তাঁর মধ্যে ৪.৪৬ একর সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন রয়েছে, নির্দেশনা মোতাবেক ভোগদখলকারীগণের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১নং খতিয়ানভুক্ত ১৭.৬৯একরের মধ্যে ৮.২১একর সম্পত্তির বন্দোবস্তগ্রহনকারীর কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যায়, অবশিষ্ট ৬.৮৮ একর সম্পত্তির ভোগদখলকারীগণ বন্দোবস্ত সুত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন মর্মে দাবি করলেও তার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি,এবং ২.৬০ একর সম্পত্তি ১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছরের বিভিন্ন বন্দোবস্ত কেইসমূলে বন্দোবস্ত গ্রহণ করলেও তাঁদের অনুকূলে কবুলিয়ত দলিল সম্পাদিত হয়নি।তাঁরা কবুলিয়ত সম্পাদনের নিমিত্ত জেলা প্রশাসক দিনাজপুর বরাবর আবেদন করলেও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাঁর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরপর নির্দেশনা মোতাবেক ৫০৩ দাগের ১৭.৬৯ একর সম্পত্তি পরিসীমা চিহ্নিত করা হয় এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ৪.৪৬ একর সম্পত্তিরও অবস্থান চিহ্নিত করা হয়,এরপর থেকে আমরা আলী আকবর গং ১নং খতিয়ানভুক্ত ৫০৩ দাগের সম্পত্তি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল থাকাবস্থায় গত ২৩/০৭/২০২৬/ইং তারিখ বেলা ১২ঘটিকার সময় মোঃ শাহাদাৎ হোসেন শাদো ও মোঃ তৌফিকুল ইসলাম তপুগং লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ১নং খতিয়ানভুক্ত ৫০৩ দাগের বন্দোবস্ত সুত্রে পাওয়া আলী আকবরগংয়ের ভোকদখলিয় সম্পত্তি গত ২৩/৭/২০২৬ তারিখ বেলা ১২ ঘটিকার সময় লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক দখল করে আমন রোপণ করে। এ বিষয়ে গত ২৩/৭/২০২৬ ইং তারিখে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত পার্বতীপুর। ১নং শাহাদাৎ হোসেন শাদো ২নং তৌফিকুল ইসলাম তপুকে আসামি করে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন মর্মে মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী আলী আকবরগং সাংবাদিকবৃন্দের সহায়তায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন বলেন আমরা ভূমিহীন অসহায় গরীব মানুষ জীবন নির্বাহের তাগিদে সরকার বাহাদুর হতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করা সম্পত্তি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি কিন্তু সেই জমি ভূমিদস্যুরা জবরদখল করে নিয়েছে আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিকট আমরা জীবীকানির্বাহ করা সম্পদ ফিরে পেতে চাই এবং এই ভূমিদস্যুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ